আমাদের কথা
একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন মূলত এর জনগােষ্ঠীর শিক্ষার উপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশের মােট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। কোনাে দেশ জনসংখ্যা এই বৃহৎ অংশকে এড়িয়ে তার সমৃদ্ধির আশা করতে পারে না। তাই প্রত্যেক দেশের জন্য নারীশিক্ষা অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে অত্র এলাকার সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯০ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বক্সগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত নাঙ্গলকোট উপজেলাধীন ১৫ নং বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তর্গত কোকালী গ্রামে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা লগ্নে সর্বোচ্চ দাতা ছিলেন কোকালী গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক মৃত “ আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন মাস্টার” ও “জনাব, শহিদুল আলম পাটোয়ারী”। তিনি মেয়েদের বিভিন্ন সমস্যার কথা চিন্তা করে নারীর ক্ষমতায়ন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং শালীন পরিবেশে শিক্ষার লক্ষে ১৯৯০ সালে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়টির উদ্যোক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ের বিশিষ্ট ছাত্রনেতা “জনাব শহিদুল আলম পাটোয়ারী”। নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ০১-০১-১৯৯১ ইং সালে বকসগঞজ উচ্চ বিদ্যালয়ে “বক্সগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” এর শ্রেণী পাঠদান শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯২ ইং সালে ৩৩ শতাংশ জায়গা বিভিন্ন ধর্নাঢ্য ব্যক্তি ও বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় ক্রয় করা হয়। ০১-০১-১৯৯১ ইং সালে বালিকা বিদ্যালয়টি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে প্রথম স্বীকৃত পায় এবং ০১-০৭-১৯৯৪ ইং সালে “জনাব মো: আবুল খায়ের” সাহেবের সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রথম নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে এম.পি.ও. ভুক্ত হয়।“জনাব মো: আবুল কাসেম” (সিনিয়র এডভোকেট)“জনাব মো: আখতারুজ্জামান মজুমদার, “জনাব মো: আলী হায়দার”, “জনাব মো: আলী আক্কাস মাস্টার, “মৃত জনাব মো: ফজলের রহমান” “মৃত জনাব বাবু রাজ মোহন পাল”, “জনাব সুলাইমান ভূঁইয়া, জনাব আখতারুজ্জামান মজুমদার, জনাব, মো: তনু মিয়া, জনাব, আলী হায়দার, জনাব আলী আক্কাস ভূঁইয়া, জনাব রুহুল আমিন, ডা: রাজ মোহান পাল তাঁদের অগ্রণী ভূমিকায় বিদ্যালয়টি ০১-০১-১৯৯৫ ইং সালে নবম শ্রেণী এবং ০১-০১-১৯৯৬ ইং সালে দশম শ্রেণি স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৯৭ ইং সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ০১-০৪-১৯৯৯ ইং সালে বিদ্যালয়টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে শিক্ষক/শিক্ষিকা কর্মচারী এম.পি.ও. ভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোসা: মনোয়ারা আক্তার এর সুযোগ্য নেতৃত্বে অত্র এলাকার নারী শিক্ষার বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। লেখা পড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, সহশিক্ষা কার্যক্রম,বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বই পড়া, গালর্স গাইড সহ সর্ব ক্ষেত্রের বিদ্যালয়টি ছাত্রীদের পদচারনা রয়েছে। জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরিক্ষা সাফল্য জনক ফলাফল করে আসছে। বিদ্যালয়টির উন্নয়নে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কমনা করছি। সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে নারীদেরকে বাদ দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষার উন্নয়নের জন্য যে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তা বস্তবায়নের জন্য সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক মোসা: মনোয়ারা আক্তার এর নেতৃত্বে সকল শিক্ষক ও কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে ছাত্রীদের যুগপোযোগী করে গড়ে তোলা। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নারী শিক্ষায় অগ্রগতি সাধন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা। শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও বিজ্ঞান মনষ্ক জাতি হিসেবে গড়ার লক্ষে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নারী শিক্ষা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সমাজ ও দেশ গঠনে অবদান রাখা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নারী শিক্ষা নীতি তথা সার্বিক শিক্ষামূলক কর্মচসূচী বাস্তবায়ন করা । শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রীদের শারিরীক সু-স্বাস্থ্য, মানসিক উন্নয়ন ও নৈতিকতা পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলা। সহ শিক্ষা কার্যক্রম যেমন-খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,গালর্স গাইড এর অনুশীলন। আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বই পড়া কর্মসূচী বাস্তবায়ন। ছাত্রী/শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি সেতু বন্ধন স্থাপন। একাডেমীক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রীদের সামাজিক সচেতনতা মুলক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা। ছাত্রীদের নিরাপদ পরিবেশ ও যথাযথ শিক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ। নিয়মিত ছাত্রী ও অভিভাবক সম্মেলন। সর্বোপরি নারী শিক্ষার অগ্রগতির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন।